ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী খুবই কার্যকারী

ত্বকের যত্ন

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেল একটি প্রাচীন ভেজষ উপাদান। এ অ্যালোভেরা জেল ত্বক, চুল ও কোষ্ঠকাঠীন্য দূরীকরণে শতভাগ কার্যকারী একটি ভেজষ। অ্যালোভেরা জেলের সাথে কি কি উপাদান মিশ্রিত করে জেল মাস্ক তৈরী করে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানা একান্ত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং তা না হলে এর সঠিক ব্যবহারের গুণাগুন পরিলক্ষিত হবে না আর বৃথা কষ্ট ছাড়া কিছুই নয়।

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেল তৈরির নিয়মাবলীঃ

নিম্নে কিভাবে অ্যালোভেরা থেকে জেল বের করতে হয়, কিভাবে অ্যালোভেরা জেল মাস্ক তৈরি করতে হয় এবং কিভাবে তা ব্যবহার করতে হবে তার বিস্তারিত কথা আলোকপাত করা হলঃ

অ্যালোভেরা থেকে জেল বের করার নিয়মঃ প্রথমে একটি অ্যালোভেরা পাতা সংগ্রহ করে সেই পাতাটি ভালো করে ধৌত করে নিয়ে একটি চা-চামচের সাহায্যে অ্যালোভেরা পাতাটির বুকের পিঠ থেকে চামচ দিয়ে পাতাটির উপরের আবরণটি উঠিয়ে চামচ দিয়ে অ্যালোভেরা জেল কোড়াইয়ে নিন। অ্যালোভেরা জেল সংগ্রহ করার পর একটি পাত্রে নিয়ে চামচ দিয়ে ভাল করে ঘুটিয়ে নিন ও তা জেনো তরল মশ্রিণোতায় পরিণত হয়।এছাড়া বাজার থেকে নামিদামী ব্যান্ডের অ্যালোভেরা জেল ক্রয় করে নিতে পারেন তা হলে কোন ঝামেলার প্রয়োজন হবে না। তবে সরাসরি অ্যালোভেরা জেল অধিক কার্যকর ও পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াহীন।

কোষ্ঠকাঠীন্য দূরীকরণে অ্যালোভেরা জেলঃ

যারা কোষ্ঠকাঠীন্যতায় ভুগছেন তাদের জন্য অ্যালোভেরা জেলের গুরুত্ব অবর্ণনীয়।অ্যালোভেরা জেল কোষ্ঠকাঠীন্যতা দূরীকরণে ব্যাপক কার্য়কারী। আপনি তা পান করে নিজেই উপলদ্ধি করতে পারবেন নিঃসন্দেহে। অ্যালোভেরা জেলের সাথে অন্যান্য উপাদান মিশ্রিত করে পান করতে হবে রাতে অথবা সকালে খালি পেটে তবে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার কিছু পূর্বে পান করা অধিক কার্যকর বলে বিবেচিত। নিম্নে কিভাবে অ্যালোভেরা জেলের সাথে অন্যান্য উপাদান মিশানো হয় তার পদ্ধতি ও পান করার বিধি দেওয়া হলঃ-

অ্যালোভেরা জেলের সাথে অন্যান্য উপাদান মিশানোর পদ্ধতিঃ

উপাদানঃ

১। ইসুবগুলের ভূষি

২। তোকমা

৩। তালমাখানা

৪। অ্যালোভেরা জেল

৫। আখের গুঁড়/ গ্লুকোজ পাউডার

মিশ্রণ পদ্ধতিঃ

প্রথমে একটি গ্লাস/মগ নিন এবং গ্লাসের মধ্যে পরিমাণ মতো পানি ঢেলে নিন। তারপর পানি ভর্তি গ্লাসের মধ্যে ১-চামচ উসুবগুলের ভূষি, ১-চামচ তোকমা, দেড় চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১-চামচের চার ভাগের একভাগ তালমতাখানা ও ১-চামচ অথবা পরিমাণ মতো আখের গুঁড় বা গ্লুকোজ পাউডার (গ্লুকোজ হলে ভালো হয়) নিয়ে চামচ দিয়ে ভালোভাবে নেড়েচেড়ে নিয়ে ১০ মিনিট পরে আবার ভালো করে নেড়ে নিয়ে এবার পান করুন।

ব্যবহারের সময়ঃ

১। সকালে (খালিপেটে)।

২। রাতে- ঘুমাতে যাওয়ার আগে (রাতে খেলে অধিক কার্যকর)।

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেলের ব্যবহার বিধিঃ 

অ্যালোভেরা জেল আপনার ত্বকের গ্লো বৃদ্ধি করে, ত্বককে লাবণ্যময় করে তোলে, ত্বকের কোষ সজীব রাখে, ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করে, ত্বকের ব্রণ ও দাগ মুক্ত করে এই অ্যালোভেরা জেলের তুলনা নেই।   নিম্নে ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা জেলের মাস্ক তৈরি করার পদ্ধতি সমূহ দেওয়া হলো-

অ্যালোভেরা/ ঘৃতকুমারী ও পাতিলেবুর ফেস মাস্কঃ

ত্বকের রোদে পোড়া দাগ দূর করতে ও স্কিন সফ্ট বা কোমল ভাব বজায় রাখতে এই ফেস মাস্ক অভাবনীয় কাজ করে থাকে। এই মাস্ক তৈরি করা খুবই সহজ প্রক্রিয়া। আপনি নিজে নিজেই তৈরি করে ব্যবহার করতে পারবেন।

উপাদানঃ

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেল ৪ চামচ ও অর্ধেক পাতিলেবুর রস।

পদ্ধতিঃ

একটি পরিষ্কার পাত্রে ৪-চামচ অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেল নিয়ে তার মধ্যে একটির অর্ধেক পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ভালো করে ১টি চামচ বা মিশ্রণ যন্ত্র দিয়ে মিশ্রণটি করে মাস্ক তৈরি করে নিন।

ব্যবহার বিধিঃ

অ্যালোভেরা ও পাতিলেবুর রেডি মাস্কটি ত্বকে ভালোভাবে লাগিয়ে প্রায় ৫ মিনিট ধরে হালকা ম্যাসাজ করে নিন। এবার ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্ততঃ ৩ বার ব্যবহার করুন আর পুরো সপ্তাহ করতে পারলে দারুণ ফলাফল উপলদ্ধি করতে পারবেন।

অ্যালোভেরা/ঘৃতকুমারী ও মুলতানি মাটির ফেস মাস্কঃ

তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে যারা চিন্তিত তাদের জন্য অ্যালোভেরা ও মুলতানি মাটির এই ফেস মাস্কটি ব্যবহার করে আপনার ত্বককে কোমন, নরম, মসৃণ ও ঝকঝকে করে তুলতে পারেন। যা আপনার সৌন্দর্যকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে তুলতে সাহায্য করবে।

উপাদানঃ

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেল, মুলতানি মাটি, মধু ও লেবুর রস।

পদ্ধতিঃ

একটি পরিষ্কার পাত্রে ৪-চামচ অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেল নিয়ে তার মধ্যে ২ চা চামচ মুলতানি মাটি, ১ চামচ মধু ও ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ভালো করে পেষ্ট তৈরি করে নিন যাতে মাস্কটি যেন আঠালো যুক্ত হয়।

ব্যবহার বিধিঃ

এই মাস্কটি আপনার মুখমন্ডলে ও গলায় ভালোভাবে লাগিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি সপ্তাহে একবার লাগিয়ে ভালো ফলাফল পেতে পারেন। আপনি এই মাস্কটি লাগিয়ে নিজেই প্রমাণ করে দেখুন।

অ্যালোভেরা জেল, মসুর ডালের গুঁড়া ও কাঁচা টমেটোর ফেস মাস্কঃ

যাদের হাত-পা, মুখমন্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানের রোঁদে পোঁড়া দাগ দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন এ অ্যালোভেরা জেল, মসুর ডালের গুঁড়া ও কাঁচা টমেটোর ফেস মাস্কটি। যা আপনার পোঁড়া দাগ দূর করতে অভাবনীয় কাজ করবে।

উপাদানঃ

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমালী জেল, মসুর ডালের গুঁড়া ও কাঁচা টমেটোর মাঝখানের শাঁস।

পদ্ধতিঃ

আপনি ব্যবহারের পরিমাণ বুঝে একটি কাঁচা টমেটোর মাঝখানের শাঁসটুকু নিয়ে তার মধ্যে পরিমাণ মতো মসুর ডালের পাউডার বা পেস্ট ও তাজা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মাস্কটি তৈরি করে নিন।

ব্যবহার বিধিঃ

এই ফেস মাস্কটি আপনার ত্বকে, গলায় ও হাত-পায়ে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং যাদের ত্বক শুষ্ক তাদের জন্য এই মাস্কটি ধুয়ে ফেলার পর ভেজা ত্বকেই কয়েক ফোঁটা নারিকেল তৈল ও দুধেরে মিশ্রণ লাগিয়ে নিতে হবে। এত আপনার ত্বকে ময়েশ্চারাইজড ধরে রাখবে।

অ্যালোভেরা জেল, শসা, টক দই ও মধুর ফেস মাস্কঃ

যেকোন প্রকার ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক উপায়ে রোঁদে পোঁড়াভাব, ব্রণের দাগ, অন্যান্য ত্বকের দাগ, ময়লাযুক্ত ত্বক পরিষ্কার ও অন্যান্য সমস্যা থেকে মুক্ত রাখতে এই ফেস মাস্কটি অকল্পনীয়ভাবে কাজ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয়।

উপাদানঃ

তাজা অ্যালোভেরা জেল, তাজা শসার পেস্ট, টক দই ও মধু।

পদ্ধতিঃ

একটি পরিষ্কার পাত্রে তাজা অ্যালোভেরা জেল ২ চামচ নিয়ে তার মধ্যে তাজা শসার পেস্ট ২ চামচ যুক্ত করে ১ চামচ টক দই ও ১ চামচ মধু মিশিয়ে ভালো করে এই ফেস মাস্কটি তৈরি করুন।

ব্যবহার বিধিঃ

এই ফেস মাস্কটি ত্বকে লাগিয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধৌত করে নিন। এতে করে আপনার প্রতিদিনের ব্যবহারের ফলে ত্বক পরিষ্কার, উজ্জ্বল, সমস্যা মুক্ত ও যেকোন দাগ মুক্ত করে আপনার সৌন্দর্য ধরে রাখবে।

অ্যালোভেরা জেল, ওটমিলের গুঁড়া, অলিভ অয়েল ফেস মাস্কঃ

এই ফেস মাস্কটি ব্যবহার করার ফলে আপনার ত্বকের মৃত কোষসমূহ দূরীভূত করে আপনার ত্বকের প্রাণ ফিরিয়ে দেয়। যা আপনার সৌন্দর্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এই মাস্কটি ব্যবহারের ফলে আপনার কোষগুলো সজিব এবং ত্বকের কোমলতা বৃদ্ধিতে অগ্রনী ভূমিকা রাখে।

উপাদানঃ

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেল, ওটমিলের গুঁড়া, অলিভ অয়েল।

পদ্ধতিঃ

একটি পরিষ্কার পাত্রে ৪ চা চামচ ফ্রেস অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেল নিয়ে ব্লেন্ড করে তার মধ্যে ১ চামচ ওটমিলের গুঁড়া ও অর্ধ চামচ অলিভ অয়েল ভালো করে মিশিয়ে এই ফেস মাস্কটি তৈরি করুন।

ব্যবহার বিধিঃ

এই ফেস মাস্কটি আপনার মুখের ত্বকে ও গলায় লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধৌত করুন। এই ফেস মাস্কটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন এবং ফলাফল নিজেই উপলদ্ধি করুন।

অ্যালোভেরা জেল ও চালের গুঁড়ার ওষ্ঠ্য মাস্কঃ

ত্বকের পাশাপাশি ঠোঁটের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ও ঠোঁট কোমল, নরম ও মসৃণ করতে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেলের ব্যবহার অপরিহার্য। ঠোঁটের যত্নে এই ওষ্ঠ মাস্কটি আপনার ঠোঁটের সৌন্দর্য ধরে রাখবে যা আপনার ঘরোয়া রূপচর্চায় অনবদ্ধ সৃষ্টি।

উপাদানঃ

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেল ও চালের গুঁড়া।

পদ্ধতিঃ

একটি পাত্রে ১ চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে প্রয়োজন মতো অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ওষ্ঠ্য মাস্কটি ভালো করে তৈরি করুন।

ব্যবহার বিধিঃ

এই ওষ্ঠ্য মাস্কটি আস্তে আস্তে আলতোভাবে ঠোঁটে লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধৌত করুন। এভাবে প্রতিদিন মাস্কটি ব্যবহার করতে পারলে ঠোঁটের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবেই আসবে।

চুলের যত্নে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেলঃ

যারা চুল পড়া, চুলের খুশকি মুক্ত, সিল্কি আর চুল ঘন ও লম্বা নিয়ে চিন্তিত তাদের জন্য এই চুলের অ্যালোভেরার মাস্কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আপনার চুলের সৌন্দর্য আপনাকে স্মার্ট করে তুলবে ও আপনার চুল অন্যকে মোহিত করবে ও চুলের প্রসংশায় মুখোরচক হবে।

উপাদানঃ

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী জেল ও ক্যাস্টর অয়েল।

পদ্ধতিঃ

২ : ১ অনুপাতে অ্যালোভেরা জেল ও ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে ভালো করে এই চুলের মাস্কটি তৈরি করুন এবং এই মিশ্রণটি যেন সঠিকভাবে মিশ্রিত হয়।

ব্যবহার বিধিঃ

এই তৈরিকৃত চুলের মাস্কটি মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে সারা রাত্র রেখে পরের দিন সকালে শ্যাম্পু করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধৌত করুন। একটি নরম তোয়াল বা গমছা দিয়ে আলতোভাবে চুল মুছে ফেলুন। এতে আপনার চুলের খুশকি দূর করে আপনার চুল সিল্কি করে চুল মজবুত, ঘন ও লম্বা করে তুলবে।

মনে রাখবেন চুল আপনার সৌন্দর্যের আরেক অংশীদার।

{বি:দ্র: এই কন্টেইন দ্বারা কারো উপকার হলে আমাদের লেখা স্বার্থক হবে}