শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতা পাঠের নিয়মাবলি বা মঙ্গলাচরণ

শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতা পাঠের নিয়মাবলি

শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতা পাঠ করার পূর্বে কিছু নিয়মাবলি রয়েছে। তাই সে নিয়মাবলি অনুযায়ী শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতা পাঠ করলে যথার্থ ফল লাভ হয়। আমরা যারা প্রতিনিয়ত গীতা পাঠ করি বা করবো তারা অবশ্যই মঙ্গলাচারণ পাঠ করে শ্রীগীতা পাঠ করবেন।

-:শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতা:-

শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতার পাঠ বিধিঃ

শুদ্ধভাবে পূর্ব বা উত্তরমুখী হইয়া বসিয়া প্রথমে আচমন করিবেন। তারপর বিষ্ণুস্মরণ, স্বস্তিবাচন, সঙ্কল্প ও আসনাদি শুদ্ধি করিয়া নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করিবেন।

ওঁ অস্য শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতা মালামন্ত্রস্য শ্রীভগবান বেদব্যাসঃ ঋষিরনুষ্টুপ্‌ছন্দঃ শ্রীকৃষ্ণঃ পরমাত্মা দেবতা অশোচ্যানন্বশোচস্তং প্রজ্ঞাবাদাংশ্চ ভাষসে “ইতি বীজম্‌, সর্বধর্মান্‌ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ” ইতি শক্তিঃ অহং ত্বাং সবপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ” ইতি কীলকম্‌। শ্রীকৃষ্ণ প্রীত্যর্থং পাঠে বিনিয়োগঃ।

(ক) করন্যাস

এই মন্ত্রটি পাঠ করিয়া উভয় হাতের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা তর্জ্জনী স্পর্শ করিয়া পড়িবেন-

“নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি”

“নৈনং দহতি পাবকঃ”-ইতি অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ।

পুনরায় ঐরূপে তর্জ্জনী স্পর্শ করিয়া পড়িবেন-

“ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো”

ন শোষয়তি মারুতঃ” – ইতি তর্জনীভ্যাং স্বাহাঃ।

তারপর উভয় হন্তের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা মধ্যমা স্পর্শ করিয়া পড়িবেন-

“অচ্ছেদ্যোহয়মদাহ্যোহয়মক্লেদ্যোহশোষ্য এব চ”

-ইতি মধ্যামাভ্যাং বৌষট্‌।

তারপর উভয় হস্তের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা অনামিকা স্পর্শ করিয়া পড়িবেন-

“নিত্যঃ সর্বগতঃ স্থাণুরচলোহয়ং সনাতনঃ”

-ইতি অনামিকাভ্যাং হুম্‌।

তারপরে উভয় হস্তের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা কনিষ্ঠাস্পর্শ করিয়া পড়িবেন-

“পশ্য মে পার্থ রূপাণি শহতশোহথ সহস্রশঃ”-ইতি কনিষ্ঠাভ্যাং বৌষট্‌।

শেষে দক্ষিণ হস্তের করতল দ্বারা বাম হস্তের করতলকে স্পর্শ করিয়া পড়িবেন-

“নানাবিধানি দিব্যানি

নানাবর্ণাকৃতীনি চ”-ইতি করতলপৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায়ফট্‌।

পড়িতে পড়িতে হাততালি দিবেন। ইতি করণ্যাসঃ

(খ) হৃদয়াদিন্যাস

তারপর হৃদয়াদিন্যাস করিবেন। যথা-

নিম্নোক্ত মন্ত্রটি পড়িয়া দক্ষিণহস্ত দ্বারা হৃদয় স্পর্শ করিবেন-

“নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি

“নৈনং দহতি পাবকঃ”-ইতি হৃদয়ায় নমঃ।

পরে নিচের মন্ত্রটি পড়িয়া মস্তক স্পর্শ করিবেন-

“ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো

ন শোষয়তি মারুতঃ – ইতি শিরসে স্বাহাঃ।

অতঃপর নিম্নোক্ত মন্ত্রটি পড়িয়া শিখা স্পর্শ করিবেন-

“অচ্ছেদ্যোহয়মদাহ্যোহয়মক্লেদ্যোহশোষ্য এব চ”

-ইতি শিখায়ৈ বৌষট্‌।

তারপরে নিম্নলিখিত মন্ত্র পড়িয়া কবচ স্পর্শ করিবেন-

“নিত্যঃ সর্বগতঃ স্থাণুরচলোহয়ং সনাতনঃ”

-ইতি কবচায় হুম্‌।

শেষে নেত্রদ্বয় ও ভ্রূমধ্য স্পর্শ করিয়া নিম্নোক্ত মন্ত্রটি পাঠ করিবেন-

“পশ্য মে পার্থ রূপাণি শহতশোহথ

 সহস্রশঃ”-ইতি কনিষ্ঠাভ্যাং বৌষট্‌।

“নানাবিধানি দিব্যানি নানাবর্ণাকৃতীনি চ”

করতল পৃষ্ঠাভ্যাম্‌ অস্ত্রায় ফট্‌। (পড়িয়া হাততালি দিবেন)

     তারপর অঙ্গন্যাস করিয়া গণেশ, পঞ্চদেবতা ও শ্রীকৃষ্ণ এর পূজা করিবেন। পরে মঙ্গলাচরণ শ্লোকগুলি পাঠ করিবেন। ইতি অঙ্গন্যাসঃ

শ্রীকৃষ্ণপ্রীত্যর্থ্যং পাঠে বিনিয়োগঃ

            অথধ্যানম

ওঁ পার্থায়া প্রতিবোধিতাং ভগবতা নারায়ণেন স্বয়ম্‌।

ব্যাসেন গ্রথিতাং পুরাণমুনিনা মধ্যে মহাভরতম।

অদ্বৈতামৃতবর্ষিণীং ভগবতীমষ্টাদশাধ্যায়িনীম্‌।

অম্ব ত্বামনুসন্দধামি ভগবদ্‌গীতে ভবদ্বেষিণীম্‌।।১।।

নমোহস্তুতে ব্যাস বিশালবুদ্ধে, ফুল্লারবিন্দায়তপত্রনেত্র।

যেন ত্বয়া ভরততৈলপূর্ণঃ প্রজ্বালিতো জ্ঞানময়ঃ প্রদীপঃ।।২।।

প্রপন্নপারিজাতায় তোত্রবেত্রৈকপাণয়ে।

জ্ঞানমুদ্রায় কৃষ্ণায় গীতামৃতদুহে নমঃ।।৩।।

সবোর্পনিষদো গাবো দোগ্ধা গোপালনন্দনঃ।

পার্থো বৎসঃ সুধীভোর্ক্তা দুগ্ধং গীতামৃতং মহৎ।।৪।।

বসুদেবসুতং দেবং কংসচাণূরমর্দনম্‌।

দেবকী পরমানন্দং কৃষ্ণং বন্দে জগদ্‌গুরুম্‌।।৫।।

ভীষ্মদ্রোণতটা জয়দ্রথজলা গান্ধার-নীলোৎপলা,

শল্যগ্রাহবতী কৃপেণ বহনী কর্ণেন বেলাকুলা।

অশ্বত্থমা-বিকর্ণ-ঘোরমকরা দুর্যোধনাবর্তিনী।

সোত্তীর্ণা খলু পা-বৈ রণনদী কৈবর্তকে কেশবে।।৬।।

পারাশর্যবচঃসরোজমমলং গীতার্থ গন্ধোৎকটং,

নানখ্যানককেশরং হরিকথা- সম্বোধনাবোধিতম্‌।

লোকে সজ্জনষট্‌পদৈরহরহঃ পেপীয়মানং মুদা

ভূয়াদ্ভারতপঙ্কজং কলিমলংপ্রধ্বংসি নঃ শ্রেয়সে।।৭।।

মুকং করোতি বাচালং পঙ্গু লঙ্ঘয়তে গিরিম্‌।

যৎকৃপা তমহং বন্দে পরমানন্দমাধবম্‌।।৮।।

যং ব্রহ্মাবরুণেন্দ্ররুদ্রমরুতঃ স্তুন্বন্তি দিব্যৈঃ স্তবৈর্বেদৈঃ

সাঙ্গপদক্রমোপনিষদৈর্গায়ন্তি যং সামগাঃ।

ধ্যানাবস্থিত-তদ্‌গতেন মনসা পশ্যান্তি যং যোগিনো,

যস্যান্তং ন বিদুঃ সুরাসুরগণা দেবায় তস্মৈ নমঃ।।৯।।

(( তারপর গীতা পাঠ করিবেন ))

ধন্যবাদ 

=বাংলা হাউ ডট কম=

((www.banglahow.com))