সহজ উপায়ে প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

Natural Femile Planning

আপনার মনে প্রশ্ন হতে পারে আবার সহজ উপায়ে প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কি। এ পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা, এ নিয়ে কত প্রশ্ন। মানুষের অজানা বিষয়ের উপরই অনেক কৌতুহল থাকে। আবার তা জানা থেকেই নিবৃত্তি ঘটে। আসুন আমরা জেনে নেই- প্রাকৃতিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি কি?

বৈবাহিক জীবনে জন্ম-নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অধিকাংশ মানুষ গ্রহণ করে থাকে। তারা জন্ম-নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজারে যেসব গর্ভনিরোধক ট্যাবলেট, ইনজেকশন এবং কনডম এর উপরই নির্ভর করে থাকে। তবে যারা সচেতন ব্যক্তি বা শিক্ষিত তারাই এসব পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকে না কারণ এ পদ্ধতিতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। সচেতন ব্যক্তিদের ভরসাই হল প্রাকৃতিক উপায়ে জন্ম-নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। যদি আপনি এ পদ্ধতি গ্রহণ করিতে চান এবং এ সম্পর্কে যদি ধারণ না থাকে তবে আমাদের নিম্নোক্ত তথ্যসমূহ সম্পর্কে সম্যক্ ধারণা নিতে পারেন। আশা করি-আপনার কাছে এ তথ্যটি সহজবোধ্য মনে হবে। আর এজন্য আরো ভালোভাবে জানার জন্য চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিতে পারেন।

মহিলাদের ঋতুচক্র বা মাসিক-চক্র স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিকভাবে নির্ধারিত। ঋতুচক্রে এমন কিছু দিন সমূহ রয়েছে, তাকে নিরাপদ দিন বা সেফ পিরিয়ড বলা হয়। এসব দিনগুলিতে যৌনসংগম বা সহবাস করিলেও গর্ভধারণের ঝুকিঁ থাকে না। তাই নিরাপদ বা সেফ পিরিয়ড দিনগুলি প্রকৃতিগতভাবে নির্দিষ্ট। এজন্যই একে প্রাকৃতিক পরিবার পরিকল্পনা বলা হয়। আবার চিকিৎসকগণ এ পদ্ধতিকে ক্যালেন্ডার পদ্ধতিও বলে থাকেন। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম-নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কার্যকর করিতে অবশ্যই জানিতে হবে- মাসিক ঋতুচক্রের নিরাপদ দিন বা সেফ পিরিয়ড দিনগুলি- কোনগুলো। অর্থাৎ নিরাপদ দিন হলো যেসব দিনগুলোতে গর্ভধারণ হয় না আর সেফ পিরিয়ড হলো মাসিক ঋতুচক্র শুরু দিন থেকে ১৮ দিনের পর থেকে মাসিক ঋতুচক্র শুরু পূর্ব পর্যন্ত।

সর্বপ্রথমে আমাদের জানা দরকার মাসিক ঋতুচক্র নিয়মিতভাবে হয় কিনা। যদি মাসিক ঋতুচক্র নিয়মিতভাবে না হয় তবে এ প্রক্রিয়ায় জন্ম নিরোধ সম্ভব নয়। মাসিক ঋতুচক্র কতদিন পর পর হয় তা থেকে ১৮তম দিন বাদ দিলে ১৯তম দিন থেকে ২৭তম দিন পর্যন্ত নিরাপদ দিন বলা হয়। অর্থাৎ শেষের ১০ দিনের মধ্যে দিন হলো নিরাপদ দিন আর ১০তম দিন হলো অনিরাপদ দিন। সর্বমোট এই দিন পর্যন্ত অবাধে যৌনসংগম বা সহবাস করলে গর্ভধারণের কোন সম্ভাবনা নেই। যেমন: ধরে নেয়া যাক- আপনার মাসিক ঋতুচক্র ২৮ থেকে ২০ দিন অন্তর অন্তর হয় সেক্ষেত্রে আপনি ২৮ দিন থেকে ১৮ দিন বাদ দিলে ১০ দিন থাকে (২৮-১৮=১০) এই ১০ দিনের মধ্যে দিন নিরাপদ বা সেফ পিরিয়ড দিন আর দিন হলো অনিরাপদ দিন অর্থাৎ মোট ১০ দিন। আবার কারো কারো দীর্ঘতম মাসিক ঋতুচক্র হয়ে থাকে অর্থাৎ ৩০ দিন পরে মাসিক চক্র হওয়াই হলো দীর্ঘতম মাসিক ঋতুচক্র। সেক্ষেত্রে (৩০-১০=২০) অর্থাৎ মাসিক ঋতুচক্র শুরুর প্রথম দিন থেকে ৯তম দিন পর্যন্ত নিরাপদ দিন আর ১০তম দিন থেকে ২০তম দিন পর্যন্ত অনিরাপদ দিন এবং ২১তম দিন থেকে ২৯তম দিন পর্যন্ত নিরাপদ এবং ৩০তম দিন হলো অনিরাপদ। এ পদ্ধতি ব্যবহার করা শতকরা প্রায় ৮০% নিরাপদ। জেনে রাখুন- এ পদ্ধতির কোন রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে কিছু কিছু পুরুষের শুক্রাণুর আয়ু বেশি থাকায় তাদের পক্ষে এ পদ্ধতি অনিরাপদ। এক্ষেত্রে আপনি অনিরাপদ দিনের সাথে দিন যোগ করে নিয়ে নিরাপদ দিন বের করুন। তাই একে অনেকেই প্রোগ্রামড সেক্স বলে থাকে। সকলে মনে রাখবেন- এ পদ্ধতির ক্ষেত্রে হিসাবই হলো প্রধান বিষয়। আপনি মাসিকের সময় সঠিকভাবে হিসাবের জন্য ক্যালেন্ডারের সাহায্য নিতে পারেন। এজন্য মাসিক শুরু হওয়ার তারিখ থেকে ক্যালেন্ডারের দাগ কেটে রাখতে পারেন। তাহলে আপনি মাসিক হওয়ার তারিখ নির্ভুলভাবে গণনা করতে পারবেন। যদি এ পদ্ধতির কোন বিষয় বুঝতে গড়-অমিল হচ্ছে সেক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

প্রাকৃতিক জন্ম-নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আপনাদের কাছে ঝাঁমেলাপূর্ন বলে মনে হলেও তা আবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে এ পদ্ধতিই নিজের কাছে সবচেয়ে সহজ ও আরামদায়ক মনে হবে। একমাত্র এ পদ্ধতিই আপনার মনের পরিপূর্ণ প্রশান্তি আনতে পারে।

সবচেয়ে সহজ উপায়ঃ সকল বৈবাহিক দম্পতিদের জন্য প্রাকৃতিক উপায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ বা প্রাকৃতিক পরিবার পরিকল্পনার এ পদ্ধতি মনে রাখা খুবই সহজ এবং ঝাঁমেলামুক্ত। প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সহজ উপায় হলো মাসিক ঋতুচক্র শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকে দিন পর্যন্ত এবং মাসিক ঋতু শুরু হওয়ার পূর্বের দিন হলো নিরাপদ দিন। এই নিরাপদ দিনে স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে গর্ভধারনের কোন সম্ভাবনা নেই আর অনিরাপদ দিনে সহবাস করার ইচ্ছা হলে আপনার কনডম ব্যবহার করাই ভালো।

“ধন্যবাদ”

Be the first to comment

Leave a Reply